August 24, 2026, 6:38 pm

এটি শাহবাগ চত্বর নয়, জাতীয় সংসদ: হান্নান মাসউদকে ডেপুটি স্পিকার

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘অসত্য’ উল্লেখ করে এনসিপি’র সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র উত্তপ্ত বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (২১ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনার সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির অবতারণা হয়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে আবদুল হান্নান মাসউদ দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ভাষণে বিরোধী দলের মিছিল নিয়ে অসত্য তথ্য উপস্থাপন করছেন। এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী ঋণখেলাপিদের উৎসাহিত করছেন এবং তাদের জমিদারের সাথে তুলনা করছেন। তার এই বক্তব্যের সময় সরকারি দলের সদস্যরা তীব্র হইচই করে প্রতিবাদ জানান।

এই বক্তব্যের পর সংসদে পাল্টাপাল্টি যুক্তি উপস্থাপন করা হয়। বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তা কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ বা বাদ দেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, সংসদ নেতাকে উদ্দেশ্য করে অসত্য বাক্য বা কটূক্তি করা কাম্য নয়।

এর জবাবে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করার অধিকার বিরোধী দলের আছে। তিনি দাবি করেন, তারা গণতন্ত্রের চর্চা করতে চান, ফ্যাসিবাদের দিকে ফিরতে চান না।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেন, বিরোধী দলের সদস্য সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে অসত্যবাদী বলেছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বিরোধী দলের সদস্যদের আচরণকে ফ্যাসিস্ট আখ্যা দিয়ে হান্নান মাসউদের বক্তব্যের ওই বিতর্কিত অংশটুকু এক্সপাঞ্জ করার জোর দাবি জানান।

এক পর্যায়ে আবদুল হান্নান মাসউদ ফ্লোর না পেয়েই মাইক ছাড়াই কথা বলতে শুরু করলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তাকে থামিয়ে দেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এটি শাহবাগ চত্বর নয়, জাতীয় সংসদ। এখানে নিয়ম মেনে কথা বলতে হবে।

সবশেষে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বিষয়টি নিয়ে আর জল ঘোলা না করার অনুরোধ জানান। তিনি স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বাইরের জবাব বাইরে দেওয়া হবে, সংসদের পরিবেশ নষ্ট হয় এমন ঝগড়ায় না যাওয়াই উত্তম। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তখন জানান, সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর


প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের শুধু একার প্রস্তুতি নয়। আইনশৃঙ্ক্ষলা রক্ষাকারী সব বাহিনীরও প্রস্তুতির দরকার আছে। নতুন সরকার এসেছে। সবাই প্রস্তুত হলে বোঝা যাবে নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত। সবাইকে নিয়েই নির্বাচনে (স্থানীয় সরকার নির্বাচন) ঝাঁপ দিতে হবে। সে জন্য কার্যক্রম চলছে। gnewsদৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ‘এক্সিকিউভ লিডারশিপ ডায়ালগ’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ কথা জানান। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ এখন বলা যাবে না। দিনক্ষণ অনেক ‘ফ্যাক্টরের’ ওপর নির্ভর করে। নির্বাচন–সংশ্লিষ্টদের সবার প্রস্তুতি চূড়ান্ত হলে নির্বাচন হবে সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কিছু আইন–বিধি সংশোধন করা হচ্ছে। ইসি প্রস্তাব তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠিয়েছে। সরকারের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ও আছে, কারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, বিজিবি প্রয়োজন। সিইসি বলেন, সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্বাচন কমিশনই ঠিক করবে। তিনি জানান, বিদ্যমান আবহাওয়া, বর্ষাকাল, বন্যা, পূজা,পাবলিক পরীক্ষা—এসব বিষয় বিবেচনা নিয়ে ভোটের সময় নির্ধারণ করা হবে। সম্প্রতি পুলিশের মহাপরিদর্শকের সঙ্গে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ইসি পুলিশের প্রস্তুতি, সারা দেশের অবস্থা, কত সংখ্যক পুলিশ দিতে পারবে—এসব বিষয় জানতে চেয়েছে। তাদের কিছু পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। সিইসি বলেন, তারা জাতীয় নির্বাচন যেভাবে করেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন তার চেয়ে ভালো হবে, খারাপ হবে না। তিনি আশা করেন, সবার সহযোগিতা নিয়ে তাঁরা সেটা করতে পারবেন।

ফেসবুকে আমরা